পাখিটা বড় সুন্দর। লাল টুকটুকে ঠোঁট আর কলপাতা রংয়ের পালকাবৃত দেহ। উঠোনের ডালিম গাছটায় একটা লোহার পিন্জরে তার বসবাস। পিন্জরার দরজাটা সব সময় খোলাই থাকে। পাখিটা ইচ্ছা মত বেরোয় আবার ইচ্ছা মত ঢোকে। আজ প্রায় তিন বছর থেকে এ বাড়িতে তার অবস্থান। বাড়ির প্রতিটি ঘরে তার অবাধ বিচরন। প্রত্যেকটা মানুষ তাকে বাড়ির সদস্যের মতোই ভালোবাসে। খেতে বসলে তাকে না খাইয়ে কারো মুখে খাবার রোচে না। সবাই একে মন্টু বলে ডাকে, আর পাখিটাও এ ডাকেই সাড়া দেয়। নামটা অবশ্য ছোট চাচার দেয়া, আর পাখিটা তারই। রাস্তার পাশের বড় বটগাছটা থেকে সেই এনেছিল পাখিটাকে! তখন পাখিটার তেমন পালকও গজায়নি, সবে চোখ ফুটেছে মাত্র। নিয়ে আসার পর দাদী বড় বকেছিল তাকে, কিন্তু এখন দাদীও প্রতিদিন সকালে উঠেই একবার মন্টুর খবর নেয়।যদিও পাখিটা চাচার তবুও তার সর্ব প্রকার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলাম আমি। স্কুল থেকে এসেই সব বন্ধু বান্ধবীকে নিয়ে মাঠে ফড়িং ধরে আনি মন্টুকে খাওয়াই, কখন কোথায় যায় খোজ খবর নেই। এলাকার সবাই মন্টুকে চেনে, সবার সাথেই তার দারুন সখ্যতা। মন্টু দুষ্টও বটে। কিছুদিন আগে আমার একটা গল্পের বইয়ের পাতা কেটে শেষ করেছে, কই থেকে একটা কাপড় মাপা ফিতা আনছিলাম সেটাও হাজার টুকরা করেছে। খুব মন খারাপ হয়েছিল, দুদিন মন্টুর মুখ দেখিনি। এভাবেই চলছে।
এর মাঝেই একদিন মন্টু কোথায় জানি গেছে। একদিন, দুদিন, এক সপ্তাহ কোন খোঁজ নাই। সবার মন খারাপ। এর আগেও মন্টু উড়ে যেতো কিন্তু এতদিনতো কোথাও থাকেনি। সবাই প্রায় পাওয়ার আশা বাদ দিল, তবুও মনে মনে খুঁজতে লাগল। দাদী এলাকার প্রত্যেকটা বাড়ি ঘর তন্নতন্ন করে খুজল, আমি স্কুল যাওয়ার পথে কতো খুজলাম, বাড়ির সবাই খুঁজল।
মন্টু হারানোর দশ দিনের মাথায় একদিন বিকেলে দাদী ওকে নিয়ে আসল ক্ষত বিক্ষত অবস্থায়। যার বাড়ি থেকে আনল তাদের বাড়ি আমাদের বাড়ি থেকে বেশ দূরে। তারা জানতো না আমাদের পাখি, আর তাদের বাড়ির মুরগী মন্টুর এই অবস্থা করছে। এতদিন নাকি তাদের বাড়ির ছোট ছেলেটা মন্টুর দেখাশোনা করেছে। মন্টুকে দেখে সবার চোখে পানি। যাই হোক মন্টু তো ফিরেছে। এ ঘটনার পর মন্টু আর বাইরে তেমন যায় না চাচা আমি সহ সবাই ওকে চোখে চোখে রাখি। ভালোই চলছে মন্টুকে নিয়ে আমার দিনগুলো। একদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে স্কুল ব্যাগটা রেখে মন্টুকে খুঁজছি, পাচ্ছি না। চাচার কাছে গিয়ে বলতেই কিছু না বলে আমাকে জড়িয়ে কাঁদছে। দাদী কাঁদতে কাঁদতে বলে মন্টু মরে গেছে। আমি নির্বাক হয়ে গেলাম।
মন্টু মারা গেছে, যে তাকে এনেছিল তার পায়ের নিচে পড়েই মন্টু মরেছে। চাচা ওকে খেতে দিতে গেলে ও উড়ে চাচার পিছনে যায়, আর অসাবধানবসত তার মাথায় চাচার পা পড়ে। আর এতটুকুতেই মন্টু আমাদের ছেড়ে যায়।
এর মাঝেই একদিন মন্টু কোথায় জানি গেছে। একদিন, দুদিন, এক সপ্তাহ কোন খোঁজ নাই। সবার মন খারাপ। এর আগেও মন্টু উড়ে যেতো কিন্তু এতদিনতো কোথাও থাকেনি। সবাই প্রায় পাওয়ার আশা বাদ দিল, তবুও মনে মনে খুঁজতে লাগল। দাদী এলাকার প্রত্যেকটা বাড়ি ঘর তন্নতন্ন করে খুজল, আমি স্কুল যাওয়ার পথে কতো খুজলাম, বাড়ির সবাই খুঁজল।
মন্টু হারানোর দশ দিনের মাথায় একদিন বিকেলে দাদী ওকে নিয়ে আসল ক্ষত বিক্ষত অবস্থায়। যার বাড়ি থেকে আনল তাদের বাড়ি আমাদের বাড়ি থেকে বেশ দূরে। তারা জানতো না আমাদের পাখি, আর তাদের বাড়ির মুরগী মন্টুর এই অবস্থা করছে। এতদিন নাকি তাদের বাড়ির ছোট ছেলেটা মন্টুর দেখাশোনা করেছে। মন্টুকে দেখে সবার চোখে পানি। যাই হোক মন্টু তো ফিরেছে। এ ঘটনার পর মন্টু আর বাইরে তেমন যায় না চাচা আমি সহ সবাই ওকে চোখে চোখে রাখি। ভালোই চলছে মন্টুকে নিয়ে আমার দিনগুলো। একদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে স্কুল ব্যাগটা রেখে মন্টুকে খুঁজছি, পাচ্ছি না। চাচার কাছে গিয়ে বলতেই কিছু না বলে আমাকে জড়িয়ে কাঁদছে। দাদী কাঁদতে কাঁদতে বলে মন্টু মরে গেছে। আমি নির্বাক হয়ে গেলাম।
মন্টু মারা গেছে, যে তাকে এনেছিল তার পায়ের নিচে পড়েই মন্টু মরেছে। চাচা ওকে খেতে দিতে গেলে ও উড়ে চাচার পিছনে যায়, আর অসাবধানবসত তার মাথায় চাচার পা পড়ে। আর এতটুকুতেই মন্টু আমাদের ছেড়ে যায়।

